Menu

সর্বশেষ


নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদাসীনতার ফলে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা সভায় সভাপতির বিরুদ্ধে ‘নো মোর সিদ্দিক’ শ্লোগানসহ আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।ফলে চরমভাবে কলঙ্কিত হয়েছে এবারে প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের হিলটন হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রবাসী নাগরিকদের দেওয়া উক্ত সংবর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসার আগে ও পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মিরা বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘নো মোর সিদ্দিক, নো মোর সিদ্দিক’ বলে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ তাদের স্ব স্ব বক্তব্য ক্ষুব্ধ নেতাকর্মিদের থামাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।এসব শ্লোগান প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছেলে এক বিব্রত অবস্থার সৃষ্টি হয়। সংবর্ধনা সভা শেষ হবার সাথে সাথেই মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে শুরু মারামারি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর সামনেই ‘নো মোর সিদ্দিক, নো মোর সিদ্দিক’ বলে বারবার শ্লোগান দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা শেষ হবার সাথে সাথেই মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের মাহমুদুন নবী বাকী ও শেখ সেলিম দু’গ্রুপের মধ্যে শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি। এক পর্যায়ে মারামারিতে রুপ নেয় এ ঘটনা।তবে শেখ সেলিম গ্রুপের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা থেকে বঞ্চিত শেখ হাসিনা:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনায় তাঁকে কোন ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়নি দল কিংবা প্রবাসীদের পক্ষ থেকে।যদিও সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান প্রথমেই মাইকে ঘোষনা করেছিলেন কয়েকটি সংগঠনের ৫ জন করে সদস্য প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন। কিন্ত পরে প্রধানমন্ত্রীর সামনেই ‘নো মোর সিদ্দিক, নো মোর সিদ্দিক’ শ্লোগান শোনার পর ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে কাউকেই মঞ্চে ডাকা হয়নি।

অশুদ্ধ বাংলায় দুর্বল উপস্থাপনা:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ অশুদ্ধ বাংলায় দুর্বল উপস্থাপনা করে সকলের হাসির খোরাক হয়েছেন। তিনি উপস্থাপনার এক পর্যায়ে বলেন, এবারে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের স্মরণে ‘এক মিনিট নীরবতা করি’।

মঞ্চে বসেছিল রাজাকারের ভাই:
বিভিন্ন অঙ্গরাজের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিদের প্রতিবাদে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে নেতাকর্মিদের আসন সীমিত করা হয়।বেশ কয়েক বছর ধরেই নেতাকর্মিরা অভিযোগ করে আসছেন যে প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে বসার জন্য চেয়ারপ্রতি মোটা অংকের অর্থ আদায় করে থাকেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ কতিপয় নেতা।ফলে জামাত শিবির ও রাজাকারের দোষরাও মঞ্চে উঠার সুযোগ পেয়েছিলেন। এবারো একজন রাজাকারের ভাইকে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ নিয়ে অনেক নেতাকর্মিরাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রাজাকারের ভাই হলেও তিনি প্রায় প্রতিবছরেই মঞ্চে বসার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

আওয়ামী লীগের প্রবেশ পাশ:
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দাবিদার ও সভাপতি বিরোধী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের ঠেকাতে এবারেই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রবেশ পাশ চালু করেন। পাশ ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হবে না এমন সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আর টেকেনি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দাবিদার ও সভাপতি বিরোধী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের সকলেই প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সবাই ঠুকে পড়েন। পাশ ছাড়া অনেক মিডিয়া কর্মিদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।এজন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের উপর গণমাধ্যমকর্মিসহ স্থানীয় নেতাকর্মিদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

খালি গলায় জাতীয় সঙ্গীত সিডিতে আমেরিকান অ্যান্থেম:
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য বেশ কয়েকজন শিল্পী প্রস্তুত থাকলেও শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী কণ্ঠযোদ্ধা শহীদ হাসান খালি গলায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন। যা এর আগে কখনই ঘটেনি। প্রতি বছরেই বাদ্যযন্ত্রে সমবেত কন্ঠেই জাতীয় সঙ্গীত ও দেশের গান পরিবেশন করতে দেখা গেছে। জাতীয় সঙ্গীতের অনেক পর সিডিতে বাজানো হয় আমেরিকান অ্যান্থেম। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এ ধরনের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতাকে অনেকেই ধিক্কার জানিয়েছেন।

মিশন ও কনসুলেটের কর্মকর্তারা অবহেলিত:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগ দিতে সপরিবারে আসা জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন ও বাংলাদেশ কনসুলেটের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারি তাদের বসার জন্য কোন আসন খুঁজে পাননি। অন্যত্র থেকে চেয়ার টেনে নিজেরাই নিজেদের বসার ব্যবস্থা করেন।