Menu

সর্বশেষ


 

হুমায়ুন কবির,গৌরীপুর থেকে: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তায় কাঁদা-পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। ফলে দূর্ভোগে পড়ে এরাকাবাসী ও যানবাহন চালকরা। এলাকাবাসী প্রতিকার চেয়ে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক আবেদন করেও সাড়া না পেয়ে নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার করছে।

উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর বাজার থেকে শৌলঘাই পর্যন্ত কাঁচা সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় দুই কিলোমিটার। ওই দুই কিলোমিটারের মধ্যে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়াও সড়ক দিয়ে গোবিন্দপুর, শৌলঘাই ছাড়াও আশে পাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ উপজেলা শহর হয়ে বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। তাদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছে। কিন্ত বর্ষায় সড়কের অবস্থা বেহাল থাকায় কয়েকদিন ধরে গ্রামবাসী নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সড়ক সংস্কারে কাজ করছে নানা বয়সের মানুষ। তাদের মধ্যে একদল কোদাল দিয়ে মাটি কাটছে। অন্যরা ঝুড়িতে করে মাটি নিয়ে সড়কের ভাঙা অংশ ভরাট করছে। পাশাপাশি সড়কের মাটি কাটা অংশে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলে সড়কের ভাঙা অংশ ভরাট করা হচ্ছে। বালু ভরাট শেষে সড়কের গার্ড ওয়াল ও ইটের খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হুমায়ুন কবীর বলেন, আমি নিজেও শৌলঘাই গ্রামের বাসিন্দা। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকা করণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করেছি। কিন্ত এ বছর বর্ষা এসে পড়লেও সড়কের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় গ্রামবাসী নিজেরাই বিত্তবানদের সহায়তা নিয়ে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করে। গ্রামের বাসিন্দা আশিকুর রহমান নয়ন বলেন, বর্ষায় কাঁচাসড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। তাই গ্রামের মানুষ নিজেদের টাকায় সড়ক সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কাজের জন্য তিন থেকে চার লাখ টাকা খরচ হবে। কাজ চলছে, তবে শেষ পর্যন্ত এতো টাকা সংগ্রহ করা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি। এরকম তিনটি রাস্তা নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে মেরামত করে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মুকতাদির শাহীন।

তাঁর উদ্যোগে বোকাইনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামজীবরপুর থেকে টাঙ্গাটি রাস্তা এবং ৯নং ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর থেকে দত্তবাড়ি রাস্তা এবং ৬নং ওয়ার্ডের কিসমত বড়ভাগ গ্রামের কাঁচা রাস্তা মেরামত করা হয়। উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি। অনেকগুলি রাস্তা নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে মেরামত করে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান। তাঁর উদ্যোগে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বেকারকন্দা গ্রামের রাস্তা, পাচারকান্দা থেকে বায়ড়াউড়া রাস্তা, কোনাপাড়া রাস্তা, ইছুলিয়া রাস্তা, হাটশিরা রাস্তা ও হিম্মত নগর রাস্তা মেরামত করা হয়। এছাড়া সাতুতি গ্রামের কুদরতিয়া মসজিদ থেকে আরশেদ আলী বাড়ির রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে মেরামত করা হয়েছে। উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ধেরুয়া কড়েহা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় কোন রস্তা ছিলনা।

এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ধেরুয়া কড়েহা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় হইতে চল্লিশা কড়েহা চান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ১কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবু সালেহ মো. ওয়াহিদুল হক বলেন, গোবিন্দপুর-শৌলঘাই সড়কটির পাকাকরণের জন্য একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

বিপি/কেজে