Menu

সর্বশেষ


নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে একঝাঁক বাংলাদেশি প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও এসব কমিউনিটির ধান্দাবাজরা নিজেদের সুবিধা আদায় ও কমিউনিটিতে নাম ফোটানোর জন্য ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে অংশ নেন। এসব প্রার্থীর ঐতিহাসিক ভরাডুবির খবরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ।
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত বাংলাদেশি প্রার্থীরা হলেন বদরুন খান মিতা, শানিয়াত চৌধুরী, মেরী জোবায়দা, মাহফুজ ইসলাম, জয় চৌধুরীসহ আরো ১০ জন বাংলাদেশি প্রার্থী। এদের মধ্যে কমিটিওম্যান পদে জামিলা আক্তার উদ্দিন এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। যদিও চুড়ান্ত ফলাফল পেতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে। কেননা অনুপস্থিত ভোটারের ভোট গণনা এখনো বাকি রয়েছে। নির্বাচনে বরাবরের মতো ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা কম থাকলেও এবারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি অংশ নেয়ায় কমিউনিটির অংশগ্রহণ ছিলো লক্ষণীয়।
এ নির্বাচনে ইউএস কংগ্রেসে ২ জন, ষ্টেট অ্যাসেম্বলীতে ৩ জন বাংলাদেশি-আমেরিকান এবং ডিষ্ট্রিক্ট লিডারসহ বিভিন্ন পদে অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি বংশদ্ভুত অংশ নেন। এর আগে নিউ ইয়র্ক থেকে নতুন প্রজন্মের এত সংখ্যক বাংলাদেশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।
করোনাভাইরাস মহামারিতে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বোর্ড অব ইলেকশন অফিস অনুপস্থিত ভোটারের ব্যালটের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে বোর্ড অব ইলেকশন অফিস নিউ ইয়র্কের ৭ লক্ষাধিক ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পেপার প্রেরণ করে বলে সূত্রটি জানায়।
মঙ্গলবার ২৩ জুনের প্রাথমিক নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীদের মধ্যে ইউএস কংগ্রেসওম্যান পদে নিউ ইয়র্কের কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-১৪ থেকে বদরুন্নাহার মিতা এবং কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৫ থেকে শানিয়াত চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিউ ইয়র্ক ষ্টেটের অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩৭ (কুইন্স ব্রীজ, লং আইল্যান্ড সিটি, সানি সাইড, উডসাইড, ম্যাসপাথ ও রিজউড) থেকে অ্যাসেম্বলিওম্যান পদে মেরী জোবায়দা, অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ থেকে মাহফুজুল ইসলাম এবং অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩৪ থেকে জয় চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এছাড়াও ডেমোক্র্যাট দলীয় ডিষ্ট্রিক্ট লিডার পদে অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ থেকে ফিমেল লিডার পদে মৌমিতা আহমেদ, মেল লিডার পদে মাহতাব খান ও ইশতিয়াক চৌধুরী, অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩২ থেকে মেল লিডার পদে মোহাম্মদ চৌধুরী ও ফিমেল লিডার পদে মোবাসসেরা বেগম, অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩৯ থেকে ফিমেল লিডার পদে সাঈদা আক্তার, অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৫৪ থেকে মেল লিডার পদে নাফিজ আই চৌধুরী, অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৮৭ থেকে মেল লিডার পদে এন মজুমদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
অপরদিকে অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-২৪ থেকে জুডিলিয়াল ডেলিগেট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোহাম্মদ এম রহমান। নিউ ইয়র্কের ষ্টেট অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্র্রিক্ট-২৪ থেকে কমিটিওম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত জামিলা আক্তার উদ্দিন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত ফলাফলে মঙ্গলবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কের কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৬ থেকে পুন: নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। তার প্রতি বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশির সমর্থন ছিল বলে জানা গেছে।
অপরদিকে কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-৫ থেকে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রবীণ ও বর্তমান কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স বিজয়ী হয়েছেন। তার সাথে প্রাইমারীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তরুণ রাজনীতিক বাংলাদেশি-আমেরিকান শানিয়াত চৌধুরী। এই আসনে কংগ্রেসম্যান গ্রেগরী মিক্স-এর প্রাপ্ত ভোট ৩৩,০৯৭। তার প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশী-আমেরিকান শানিয়াত চৌধুরী পেয়েছেন ৮,৯৮৬ ভোট।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত কংগ্রেশনাল ডিষ্ট্রিক্ট-১৪ থেকে পুন: নির্বাচিত হলেন বর্তমান কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্ডার ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি পেয়েছেন ২৭,১০৩ অর্থাৎ ৭২ দশমিক ৬% ভোট। এই আসনের অপর প্রার্থীদের মধ্যে মাইকেল কাসু-ক্যাবরেনা পেয়েছেন ৭,২৫৪ অর্থাৎ ১৯ দশমিক ৪% ভোট, বদরুন খান পেয়েছেন ২,০৩০ অর্থাৎ ৫ দশমিক ৪% ভোট আর স্যামুয়েল স্লোয়ান পেয়েছেন ৯২৩ অর্থাৎ ২ দশমিক ৫% ভোট। নিউ ইয়র্ক ষ্টেটের অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩৭ আসনে বিজয়ী বর্তমান অ্যাসেম্বলিওমান ক্যাথেরিন নোলান পেয়েছেন ৫২ দশমিক ৫% অর্থাৎ ৪,৩১৪ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মেরী জোবায়দা পেয়েছেন ৩৩% অর্থাৎ ২,৭১১ ভোট। এই আসনের ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মেরী জোবায়দার আসন দ্বিতীয়।
অ্যাসেম্বলি ডিষ্ট্রিক্ট-৩৪ আসনে বিজয়ী প্রার্থী জেসিকা গঞ্জালেজ-রোজাস পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৪% অর্থাৎ ২,৫১৪ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জয় চৌধুরী পেয়েছেন ১৫ দশমিক ১% অর্থাৎ ৯৪৩ ভোট। এই আসনের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ের আসন তৃতীয়।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ ইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট পদে ডনোভান রিচার্ড ৩৯,৮৬১ অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৮% ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। এই পদের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এলিজাবেথ ক্রাউলী পেয়েছেন ৩০,৭০৪ অর্থাৎ ২৮ দশমিক ৪% ভোট, কস্টা কন্সটানটিনিডিস পেয়েছেন ১৬,০৩৬ অর্থাৎ ১৫ দশমিক ৫% ভোট, এন্থনী মিরান্ডা পেয়েছেন ১৬,০৩৬ অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৮% ভোট আর দাও ইয়াইন পেয়েছেন ৪,৮৪১ অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫% ভোট।

বিপি।এসএম


এই বিভাগের আরও সংবাদ