Menu

সর্বশেষ


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: সংক্রমণের হার মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার কয়েকটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সেসব এলাকায় শনিবার (৬ জুন) মধ্যরাত থেকে ১৪ দিনের জন্য কঠোরভাবে লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন।

আগামী ২০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর থাকবে।শুক্রবার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে সভায়।

ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

করোনা প্রতিরোধে নিয়োজিত বেসরকারি যানবাহন অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে পারবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন এর আওতার বাইরে থাকবে।

সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বৃহস্পতিবার কাঁচাবাজার ও খাদ্যপণ্যের দোকান সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রাখা যাবে। ওষুধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুদিন রোববার ও বৃহস্পতিবার খোলা থাকবে। এছাড়া সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের রেড জোনে কাজ করতে পরিচয়পত্র বহন করতে হবে।

বাস টার্মিনাল রেড জোনের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে। প্রকাশ্যে স্থানে গণজমায়েত করে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা যাবে না।

এর আগে বৃহস্পতিবার করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডকে রেডজোন হিসাবে চিহ্নিত করা হলেও আজ শুক্রবার গোটা পৌরসভাকে রেড জোন হিসাবে চিহ্নিত করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

একিভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ইতোমধ্যে জেলাকে ৩টি জোনে বিভক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে জেলার ৮টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের অতি সংক্রমিত এলাকা গুলোকে রেড জোন, এরপর সংক্রমিত এলাকাকে ইয়েলো জোন এবং যেখানে কোনও সংক্রমণ হয়নি সেসব এলাকাকে গ্রিন জোন হিসাবে চিহ্নিত করে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেসব এলাকায় কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি থাকবে। পৌরসভার কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মেম্বাররা হবেন সে কমিটি প্রধান। এছাড়া প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে যুবক ও ছাত্রদেরকে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে।

কমিটিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন আরও জানান, জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭২ জন (৩ জুন পর্যন্ত, ০৪ ও ০৫ টেস্ট বন্ধ আছে)। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪০ জন। ১৮ জন মারা গেছেন এবং ৬১৪ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। জেলায় মোট ৩ হাজার ৫৬৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে এবং ৮৩৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আনা হয়। ২ হাজার ৫১২ জনকে কোয়ারেন্টিন হতে ছাড়পত্র দেয়া হয়। অপরদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে একজন।

বিপি/কেজে


সর্বশেষ সংবাদ

এই বিভাগের আরও সংবাদ