Menu

সর্বশেষ


নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে নিরস্ত্র এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ কর্মকর্তা হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে মেরে ফেলে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ড দেশটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের নৃশংসতার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেয়াপোলিস শহরে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা বিক্ষোভের তৃতীয় রাতে মিনেয়াপোলিস শহরের পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শহরটির মানুষ বিক্ষোভ করছেন। এর আগেও শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দেন তারা।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে মিনিসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করলেও বিক্ষোভে ফুঁসে উঠছে মানুষ। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ২৮ মে সকালে চলমান এই প্রতিবাদের সময় অন্তত একজন বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন।
মিনেয়াপোলিসের একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তা কর্মীর কাজ করতেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড। গত ২৫ মে সোমবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন প্রতারণার অভিযোগে ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে হত্যা করে তাকে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‌‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় মুহূর্তেই।
এরপর প্রথম দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণ থাকলেও এখন অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তুমুল ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে তা সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দেয়া আগুনে মিনোপোলিস শহরের প্রধান পুলিশ স্টেশন পুড়ে গেছে। বিক্ষোভকারীদের দমাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ।
বুধবার রাতে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অন্তত ১৬টি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে মিনোপোলিস অরাজকতা ঠেকাতে মেয়র জ্যাকব ফ্রের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেছেন।
নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার ফ্লয়েডের পরিবার তার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার কথা বললেও সরকার পক্ষের কৌসুলিঁরা বলছেন, তারা এখনো এ নিয়ে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ করছেন। ওই চার পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফ্লয়েডের নির্মম এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে মৃত্যুর ঘটনার উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান সামনে এনেছে। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে ১ হাজার ১৪ জন মারা গেছে।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে পুলিশের গুলিতে নিহতদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশিরভাগই কৃষ্ণাঙ্গ। ‘ম্যাপিং পুলিশ ভায়োলেন্স’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার চালানো জরিপে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি মারা যায় কৃষ্ণাঙ্গরা।

বিপি।সিএস


এই বিভাগের আরও সংবাদ