Home বাংলাদেশখুলনা বাজার দরে অসন্তুষ্ট শার্শার নিম্ন আয়ের মানুষ

বাজার দরে অসন্তুষ্ট শার্শার নিম্ন আয়ের মানুষ

by বাংলাপ্রেস ডেস্ক

রাজু রহমান ,যশোর জেলা প্রতিনিধি: শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। উঠতে শুরু করেছে শীতের শাক- সবজি। কিন্তু বাজারে প্রচুর শাক সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম যেন ক্রেতার নাগালের বাইরে।সেই সাথে পাল্লাদিয়ে যেন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, অনেকের পক্ষে সংসারের খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি প্রতিটা সংসারে লেগেছে বড় ধাক্কা আয়ের সাথে তাই মিলছে না ব্যয়ের হিসাব। সে কারণেই ছোট হয়ে আসছে বাজারে তালিকা। শার্শা থানার ছোট বড় কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে স্বল্প আয়ের মানুষ গুলোর বাজার করা চিত্র। কেউ বাজারে ব্যাগ হাতে এদিক সেদিক ঘুরছে, কেউবা প্রয়োজনের অর্ধেক বাজার করেই বাসায় ফিরছে।বাজারে সবজি, মাছ, ডিম, মাংস, চাল, ডাল, তেল, আঠা ময়দা ও ফলের প্রচুর সরবরাহ থাকলেও দামে তার কোন প্রভাব ফেলছে না। মাছের বাজারে দেখা গেছে প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা পুটি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, সিলভার কাপ ১৫০ থেকে২৫০০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মাগুর ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, জিওল ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।মাংস বাজারে চিত্র যেন আরো ভয়াবহ। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০ টাকা, দেশি মুরগি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, সোনালি মুরগি কেজি ৪০০ টাকা, ব্রয়লার কেজি ৪০০ টাকা, পোল্টি কেজি ২৫০ টাকা।

মাংস কিনতে আসা আবু তালেব নামের একজন ক্রেতা জানান, সিন্ডিকেটের কারণেই মাংস বাজার এমন চড়া সাধারণ মানুষ মাংস কিনতে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছে। প্রশাসন তৎপর হলে সিন্ডিকেট থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।ডিমের দাম কিছুটা কমে প্রতি পিস ১১ টাকা হলেও কাটেনি সবজি বাজারের অস্থিরতা। বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, কুমড়া ৩০ টাকা, ডাটা ২৫ টাকা, কলা ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা,ঢেঁড়স ৪০ টাকা, কাঁচা ঝাল ১০০ টাকা, পিঁয়াজ ১০০ টাকা, রসুন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, আদা ৪০০ টাকা, আলু ৫০ টাকা।

নাভারন সবজি বাজারের সভাপতি মোশারফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম জানান বাজারে সবজির আমদানি বেশি হলে দাম কিছুটা কমে কিন্তু আমদানি কম হলে দাম বাড়ে।বাজার সিন্ডিকেট সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান, সিন্ডিকেট ছাড়া কোন বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ানো বা কমানো এটা হয় না। সবজি ক্রেতা ভ্যান চালক মইদুল ইসলাম ও রাজ মিস্ত্রী আদম আলী বলেন,শীতের বাজারে পর্যাপ্ত সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম যেন আকাশচুম্বী যা আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

বাজাবে প্রশাসনের নজরদারি একান্ত প্রয়োজন। বাজারে চাল ৬০ খেকে ১৩০ টাকা, আটা ৬৫ টাকা, ময়দা ৭৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৫০ টাকা, মাঝারি মসুর ডাল ১১০ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা, ছোলার ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ৭০ টাকা, চিনি ১৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ফল বাজারে প্রতি কেজি আপেল ২৫০ টাকা, কমলা ২০০ টাকা, মালটা ২২০ টাকা, আঙ্গুর ৪০০ টাকা, কলা ৪০ টাকা, কেজি পেয়ারা ৪০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে।বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা প্রয়োজন মত কেনাকাটা করতে পারছে না কাজেই আমাদের বেচা- বিক্রি অনেকটা কমে গেছে। একটা নিয়ম নীতির মধ্যে দ্রব্যমূল্যে রাখতে পারলে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দে ক্রয় করতে পারতেন।

শীতের বাজারে সবজির দামের এমন উর্ধ্বগতি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি টা আমাদের ক্রয়ের উপর নির্ভর করে সেখানে আমাদের কোন হাত নেই। ভুক্তভোগী ক্রেতারা বলেন, জিনিসের দাম আকাশচুম্বী হাওয়াই আমরা দিশেহারা। কোন কিছু আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রশাসনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিপি/কেজে

You may also like

Leave a Comment

কানেকটিকাট, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বৃহত্তম বাংলা অনলাইন সংবাদপত্র

ফোন: +১-৮৬০-৯৭০-৭৫৭৫   ইমেইল: bpressusa@gmail.com
স্বত্ব © ২০১৫-২০২৩ বাংলা প্রেস | সম্পাদক ও প্রকাশক: ছাবেদ সাথী