Menu

সর্বশেষ
সর্বশেষ


ফরিদপুর সংবাদদাতা : ‘একজন অশিক্ষিত বন্ধুর একজন শিক্ষিত শত্রু উত্তম’ বা ‘মূর্খের প্রশংসা শোনার চেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তির ভর্ৎসনা শোনা শ্রেয়’ প্রচীনকাল থেকে এরকম বহু প্রবাদ প্রচলিত আছে। বর্তমানে শিক্ষা শুধু জ্ঞানই তৈরি করে না, শিক্ষিত ব্যক্তির সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, পারস্পারিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিকাশে সহযোগিতা করে। আর প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পরপরই রচিত হয় একটি শিশুর সকল শিক্ষার ভিত্তি। এই বিষয়টি অনুধাবন করে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঝোটন চন্দ প্রাথমিক শিক্ষা মানোন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বোয়ালমারীতে গত ১৪ অক্টোবর যোগদানের পরপরই সকল সুধীজন ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি গ্রহন করেন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। এর অংশ হিসেবে শিক্ষকদের মাসিক সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে তাদের কার্যক্রম, ইনোভেশন ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে বিভিন্ন সাব-ক্লাস্টারে আয়োজিত পরীক্ষা গ্রহণ মূল্যায়ন ও বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সে শিক্ষকদের পারদর্শিতা ও সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মনিটরিং করেন। এছাড়া আকস্মিক স্কুলে পরিদর্শন করে ছাত্র শিক্ষক উপস্থিতির হার পর্যবেক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে যুগোপযোগী পাঠদানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি তাঁর উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধকল্পে বিভিন্ন ইউনিয়নে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ইউএনও’র ব্যক্তিগত অর্থায়নে বিভিন্ন স্কুলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, শিক্ষা উপকরণ, টিফিন বক্স ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে আইসিটির দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজন করা হয় দিন ব্যাপী কর্মশালা।

উপজেলায় প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার আয়োজন করা হয় ‘মিট দ্য ইউএনও’ প্রোগ্রাম। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেরা শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পান। এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা গ্রহণ ও সুন্দর জীবন গঠনে সহায়ক বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়। অতি সম্প্রতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পঠন ও লিখন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উপজেলায় আয়োজন করা হয় সুন্দর হাতের লেখা, ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ ও সাবলীলভাবে পঠন দক্ষতা যাচাই প্রতিযোগিতা। আয়োজিত এ সকল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীল ও সুন্দর হাতের লেখা, শব্দ ও বাক্যের গঠন এবং ভাষা প্রয়োগ দক্ষতার বৃদ্ধি, পাঠপুস্তক ব্যতিত সমশ্রেণীর অন্যান্য বই, ম্যাগাজিন ও পত্রিকা লেখার অভ্যাস বৃদ্ধি পায়। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষে ইউএনও’র উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে ‘দর্পণ’ নামক স্মরণিকা।

২০২০ সাল ও আসন্ন মুজিববর্ষকে সামনে রেখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসার, সকল প্রধান শিক্ষক ও সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, এসএমসি সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিযোগিতায় ব্যাপক কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানে প্রতি শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শিশুদের উপযোগী করে বই প্রকাশ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর বিশেষ ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচার। ওরিয়েন্টেশন, বেসিক, এডভান্স ও স্কীল কোর্স সম্পন্ন এই ইউএনও’র উদ্যোগে শতভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গঠন করা হয়েছে কাব দল।

সার্বিক কর্মকান্ড ও মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটি ঝোটন চন্দকে ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ ব্যাপারে ইউএনও ঝোটন চন্দ বলেন, ‘‘এ সকল গৃহিত উদ্যোগ ও এর সফল বাস্তবায়ন এসডিজি’র ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা, ‘মানসম্মত শিক্ষা’, ও পরোক্ষভাবে অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করছে। এছাড়াও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসার এর লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে সকল শিক্ষা কার্যক্রম।

তিনি আরও বলেন, বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসন, প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সকল কর্মকর্তা ও শিক্ষক শিক্ষিকা একযোগে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে।”

বিপি/আর এল


Leave a Comments

avatar
  Subscribe  
Notify of