Menu

সর্বশেষ
সর্বশেষ


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া নারীর উন্নতি সম্ভব নয়। অন্ধকার জগত থেকে নারীদের আলোর পথ দেখিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেন।’

আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বেগম রোকেয়া পদক-২০১৯’ প্রধান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ আমরা নারীরা যেসব স্থানে এসেছি তাতে বেগম রোকেয়ার অবদান রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। পার্লামেন্টেও তিনি নারীদের জন্য আসন সংরক্ষিত করেছিলেন। সরকারী চাকরিতেও তিনি নারীদের অবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন।’

বেগম রোকেয়ার নারী শিক্ষায় অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা মেয়েদের শিক্ষার অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন। নারী শিক্ষা অবৈতনিকের সঙ্গে বাধ্যতামূলক করেছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। বিচার বিভাগে নারীরা চাকুরি করতে পারতেন না। জাতির পিতা আইন করে বিচার বিভাগের নারীর অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। আমরা সরকারে আসার পর নারীকে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি কথা রেখেছিলেন। আমরাই নারীকে সচিব, ডিসি, এসপি ও ওসি করেছি। সরকারের আসার পর আমরা তিন বাহিনীতে নারী নিয়োগ দিয়েছি। এসব করতে আমাদের অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। নারীরা স্ব স্ব অবস্থানে তাদের যোগ্যতা দেখিয়েছেন।’

নারী শিক্ষায় তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা মেয়েদের বৃত্তি দিচ্ছি। ২ কোটি ৩ লাখ মেয়েকে আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাষ্ট থেকেও উচ্চ শিক্ষায় নারীকে বৃত্তি দেওয়া হয়। শুধু শিক্ষা নয়, আমরা নারীদের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে ৬০ ভাগ নারী নেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে নারীদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা হচ্ছে। এখানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মেয়েরা উদ্যোক্তা হোক এটা আমরা চাই।’

জাতীয় সংসদে নারীদের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্লামেন্ট কার্যকর হয় স্পিকার, সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতাদের জন্য। এখন এই তিন জায়গাতেই নারী রয়েছে।’

ক্রীড়া অঙ্গনে মেয়েরা ভালো করছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারীদের সুরক্ষার জন্য তার সরকার বেশ কয়েকটি আইন প্রনয়ন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি আমরা তিন মাস থেকে ছয় মাস করেছি। নারীদের জন্য যে স্বপ্ন বেগম রোকেয়া দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ কাজ করছে। নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বে বাংলাদেশ এটা নিশ্চিত করেছে।’

একটা সমাজ তথা দেশকে এগিয়ে নিতে হলে নারী ও পুরুষের সমান অবস্থান জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় মনোনীত যে পাঁচ নারী রোকেয়া পদক পেয়েছেন তারা হলেন- নারীশিক্ষায় অধ্যক্ষ শামসুন্নাহার, নারীর অধিকার, নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য পদক পাচ্ছেন ড. নুরুন্নাহার ফয়জুন্নেসা (মরণোত্তর)।

বিপি/আর এল


Leave a Comments

avatar
  Subscribe  
Notify of