Menu

সর্বশেষ
সর্বশেষ



— হারুন চৌধুরী

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের নাম পৃথিবীর মানচিত্রে স্হান পাবার পর লাখ লাখ বাঙালি বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রেও হাজার হাজার মানুষ এসেছেন রুটি রোজগারের আশায়। কেউ এসেছেন লেখাপড়া করার উদ্দেশ্যে। পর্যায়েক্রমে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই।অনেক বাঙালিরা দেশ থেকে মনে করেন দূতাবাসের লোকজন হয় তো তাদের সাহায্য সহযোগিতা করবেই। কিন্তু দূতাবাসের ক্ষমতা কতটুকু। বিভিন্ন কাজকর্মে স্হানীয় বাংঙালিরাই তাদেরকে সাহায্য করে থাকেন।
বাঙালিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সমিতি গঠনেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।যেমন মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন অথবা দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ ইত্যাদি। বিভিন্ন ষ্টেটে বাঙালিরা বসবাস করার ফলে সেখানে নানা রকমের সমিতি গড়ে উঠে এক নুতন অধ্যায়ের সূচনা হয়ছে। ১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু প্রতিভাবান বাংলাদেশি মিলে উত্তর আমেরিকার সকল সংঠগনগুলোকে একএিত করে একটি কনফারেন্স করার উদ্দোগ গ্রহণ করেন।মুল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের উন্নতি এবং একে জানাজানি।
অপরকে নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনফারেন্স নাম দিয়ে দুদিনব্যাপি সন্মেলন চলে। যার স্বাগতিক সংগঠন ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক ওয়াশিংটনডিসি (বিএএআই) নাম দিয়ে প্রথম এর যাএা শুরু।ওইসময় সন্মেলন কমিটিতে ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার ইকবাল বাহার চৌধুরী, প্রকৌশলী ওয়াহেদ এ হোসাইনী,আবু সোলাইমান, রশিদা আলম,ড.সুলতান আহাম্মদ,ড.ওবায়দুল হক,রশিদুল হোসেন, ড.আমিনুল ইসলাম, ফরিদ খান,সৈয়দ মোহান্মদ উল্লাহ, ড.এনায়েতুর রহিম ও ড.মোহাম্মদ ইউসুফসহ আরও অনেকে।প্রধান অতিথি ছিলেন সে সময়ের রাষ্ট্রদুত কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।ঢাকা থেকে এসেছিলেন জনাব এম এ মুহিত।প্রবাসে অবস্থানরত গুণীজনরা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাচ গান পরিবেশ্ন করেন। এর ফলে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বাঙালিরা অনুস্ঠান উপভোগ করেন।দেশিয় খাবারের দোকান শাড়ি কাপড় বইয়ের স্টল ছিল জমজমাট।ঝিমিয়ে পরা দেশত্যাগী বাঙালিরা যেন ছোট্ট একটি বাংলাদেশ খুঁজে পায়। যারা দেশের শেকড়ের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে ছিল তারাও দেশের কথা ভাবতে আরম্ভ করে পরবর্তীতে নাম পালটিয়ে নামকরণ করা হয় ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মিলে ফোবানা সন্মেলন থেকেই সিদ্ধান্ত হয়।বাংলাদেশর সকল অ্যাসোসিয়েশন মিলে প্রতিবছর ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই থেকেই ফোবানার পথ চলা।পরবর্তীতে বিএএআই ক্ষমতার দ্বন্দে একই নামে বিভক্ত হয়ে যায়। ড.আব্দুর রাজ্জাক ও ড.গোলাম ফরিদ আক্তার অপরটির নেতৃত্ব দেন।একই নাম হওয়াতে দুই গ্রুপিং এর মধ্যে দ্বন্দ চলে বহু বছর। পরবর্তীতে এটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর বিএএআইর অপর অংশের সভাপতি ড.ইনারা ইসলাম মিলে নাম পরিবর্তন করে নুতনটির অংশের নাম রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়াশিংটন ডিসি (বাগডিসি)। তখন থেকেই কমিউনিটির এই অংশের নেতৃত্ব দেন এটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর।
এখন আসল কথায় ফিরে যাই। ফোবানার আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নুতন প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা।সেই সাথে বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে দেশে কোন কাজটা সঠিক হলে সরকার উপকৃত হবে।সরকারের কাছে রিকমেন্ডেশন করা।
সাধারনত কবে কোন দিন ফোবানা অনুষ্ঠিত হবে তাও নির্ধারন করা হয়।সাধারনত লেবার ডে উইকেন্ডে ফোবানা সম্মেলন দুদিনে অনুষ্ঠিত হয়। ভালই চলছিল। দেশ ও বিদেশে ফোবানার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল।এরই মধ্যে কিছু লোক ফোবানাকে নিয়ে রাজনীতি আরম্ভ করেন।যে সব বুদ্ধিজীবিরা এগিয়ে এছেসিলেন তারা সবাই সিটকে পড়েছেন। একশ্রেণির স্বর্থান্বেসী মহলের রোষানলে পড়ে যায় ফোবানা সম্মেলন। আরম্ভ হয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। ১৯৯৪ সালে কানাডাতে ফোবানা সন্মেলন না হয়ে বিভক্ত হয়ে যায়।একই দিনে ৯ মে ড.শাহজাহান মাহমুদের মাধ্যমে বোস্টনে অপরটি নিউ জার্সিতে
ড. নুরুন্নবীর মাধ্যমে ফোবানা সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।প্রবাসী বাঙালিদের মনে যে আশা জেগে ছিল তা নিরাশ হয়ে যায়।একত্রকরনের শত চেষ্টা করেও রাজনৈতিক কারণে তা ব্যর্থ হয়েছে।
গুণীব্যক্তিদের কাছ থেকে ফোবানা এখন চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে।ওয়ান ম্যান শো। তারাও ফোবানার গঠনতন্ত্র না মেনে ভোট দানের সদস্য হয়। ২০১৩ সবার প্রচেষ্টায় আবার ফোবানা সন্মেলন একটাই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটা হয়ে ছিল টেক্সাসে।অনেকে আবার আশার আলো দেখতে পেয়েছিল।
২০১৯ সাল ফোবানা নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়।২০২১ সালে কোথায় ফোবানা সন্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।এই নিয়ে জল্পনা কল্পনা অনেকেই করতে থাকে।বাগডসি ও ৭১ ফাউন্ডেশন আনার চেষ্টা করেন কিন্তু ৭১ ফাউন্ডেশনের সদস্য পদ না থাকতে জিআই রাসেলের মাধ্যমে ফোবানা সন্মেলন আনার চেষ্টা করবে বলে জানা যায়।সে প্রচেষ্টা আগে থেকেই করতে থাকে।এই কমিউনিটির এখন সবার পরিচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পারভীন পাটোয়ারী ফোবানা সন্মেলন আনার জোর চেষ্টা করেন।
বাগডিসির নীতি নির্ধারকরা ফোবানা অনুষ্ঠানের রাতে এটনী আলমগীরের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় জিআই রাসেলের সাথে বাগডিসি কোন নির্বাচন করবে না।
ফোবানার শেষ দিন বার্ষিক সাধারন সভা যখন হয় তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। আমি, আলমগীর ও নবীকে মিলে ষ্টারবার্ক কফি হাউজে কফি পান করছিলাম। এমন সময় জানা গেল বাগডিসি নির্বাচন করেছে, জিআই রাসেলের বাফির সাথে।তখনই আমি ও নবী আলমগীর সাহেবকে অনুরোধ করলাম শিগগির হোটেলে চলে যান। ‘নির্বাচন বন্ধের ঘোষনা দেন’। সবাইকে বলার জন্য। সে অনুযায়ী আলমগীর সাহেব আমাদের রেখেই হোটেলে ফিরে গেলেন। আমরাও পরে উপস্থিত হলাম। যেয়ে দেখি তার উল্টো। বাগডিসি নির্বাচন করছে। নবী আমাকে আগেই বলেছিল যদি নির্বাচন করে তাহলে বাগডিসি গুহারা হারবে।কারন ওরা আগেই সদস্য ভোট সংখ্যা গননা করে রেখেছে। নির্বাচনে পারভীন পাটোয়ারীরা জিতবে।
জানলাম আলমগীর সাহেবের কথায় কেহ পাত্তাই দেয় নাই। বাগডিসির কর্তারা নাকি মন্তব্য করেছে-আমরা মেজরিটি ভোটে জিতবো।এই ওভার কনফিডেন্সের ফল হল তার উল্টো। বাফি মেজরিটি ভোট পেয়ে ২০২১ ওয়াশিংটনে ফোবানা ‘বাফির’ নেতৃত্বে হবে।
সবায় তখন সমালোচনা করছিল বাগডিসি কেন নির্বাচনে গেল।সিদ্ধান্ত হল বাফির সাথে বাগডিসি কোন নির্বাচন করবে না। ফলে যা হবার তাই হল।যদি নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা না থাকে তবে বাগডিসি কেন নির্বাচনে গেল? এখন যুক্তি দেখিয়ে কোন কাজ হবে না।বাগডিসি নির্বাচনে হেরে গেছে এটাই চিরসত্য।
সোসাল মিডিয়াতে জানা গেল সাম্প্রতি বাগডিসি এবং নিউ ইয়র্কের অন্য এক গ্রপের যৌথ উদ্দোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
জানা যায়, এটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর সাহেব নাকি নিউ ইয়র্কের সংবাদ সম্মেলনের দিন ওয়াশিংটনে পারভীন পাটোয়ারীদের নিয়ে ‘সাপলুডু’ সিনামা দেখতে সেখানেই ছিলেন।
আগামী ২০২১ সালে ফোবানা সন্মেলন বাফির সাথে প্রতিযোগিতায় আরও একটি ফোবানা সন্মেলন হবে।ওয়াশিংটনে একই দিনে দুটা ফোবানা।শিশুরা জেনে বলে ‘কি মজা দুটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমরা অনেক গান শুনতে পারব। তবে বুদ্ধিজীবিদের মন্তব্য ‘আমরা কেউই ভাঙা ফোবানায় যাব না’।

সহযোগী প্রতিবেদক- এনআরবি গ্লোবাল নিউজ মিডিয়া ইউএসএ

বিপি।সিএস


Leave a Comments

avatar
  Subscribe  
Notify of