নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তাকে হুমকি

বিমান টিকেটের মহা কেলেঙ্কারি
 

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বিমান টিকেট ক্রয়ে প্রতারিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে আইন পরামর্শসভার আয়োজন করায় বাংলাদেশ সোসাইটির এক কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার তাঁকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজস্ব ভবনে বিমান টিকেট ক্রয়ে প্রতারিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে আইন পরামর্শসভার সভার আয়োজন করেন বাংলাদেশ সোসাইটি। এ সভার ঘোষনার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর উপর নানা  চাপ এসেছে। শেষে গত বৃহস্পতিবার তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি বাংলা প্রেসকে বলেন।
আব্দুর রহিম হাওলাদারের কাছে আইন পরামর্শসভার সভার সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হলে তিনি বাংলা প্রেসকে বলেন, সভার সিদ্ধান্ত জানতে হলে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে কোন নিউজ দেওয়া যাবে না। শনিবার বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাষ্টি বোর্ডের যৌথ সভায় এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দয়া করে এর আগে কোন নিউজ দেবেন না। কারন আমি বিভিন্ন ভাবে হুমকি পাচ্ছি। কে বা কারা তাঁকে হুমকি দিচ্ছে এ ব্যাপারে তিনি আর কিছুই বলেনি।
দুই সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির ক্রয়কৃত বিমান টিকেটের মহা কেলেঙ্কারির হোতা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন সংক্রান্ত এ পরামর্শ সভায় বাংলাদেশি একাধিক আইনজীবি ও প্রতারিত শতাধিক বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগিরা উল্লেখ করেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসের মালিক নাজমুল হুদার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল দেশ ভ্রমণে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের বিমান টিকেটের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। তাই তিনি পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ করে সপরিবারে গা ঢাকা দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সোসাইটির অন্যান্য সভা সমাবেশে প্রচুর সাংবাদিকের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু আজকে কেন মাত্র ৪/৫ জন সাংবাদিক এসেছেন। তারা বাংলাদেশ সোসাইটির এবার কোন বিজ্ঞাপন পাননি নাকি প্রতারক নাজমুল হুদার কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে তাকে বাচাঁনোর চেষ্টা করছেন। এক পর্যায়ে তারা ঢালাওভাবে সাংবাদিকদের অশ্লিল ভাষায় (যা পত্রিকায় প্রকাশ করার মত নয়) গালাগাল করতে থাকেন। এমন প্রশ্নে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সোসাইটির কর্মকর্তারাও বিব্রতবোধ করেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। তারা বলেন, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেল সার্ভিসের প্রতারণার খবর নিয়ে মিডিয়ার ভূমিকার বিষয়ে ঢালাও অভিযোগ করা সঠিক নয়। ভুক্তভোগীদের সাথে প্রবাসের সকল মিডিয়াও সহমর্মিতা রয়েছে এবং একাদিক সংবাদপত্র ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলসের প্রতারণার খবর শিরোনামও করেছে। সভায় টিকেট ক্রয়ে প্রতারিত ভুক্তভোগিরা সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে রহিম হাওলাদার বলেন প্রায় সকল সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিন্তু এসেছেন মাত্র ৪/৫ জন।