এবার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বাংলাদেশি কূটনীতিকের গৃহকর্মী নিখোঁজ


 
সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক : এবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বাংলাদেশি কূটনীতিকের গৃহকর্মী নিখোঁজ হবার খবর পাওয়া গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কূটনীতিকের গৃহকর্মী দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ওই গৃহকর্মীর নাম মো. সাবি্বর (৩৯)। তিনি ডেপুটি কনসাল জেনারেল

কাজী আনারকলির বাসায় কর্মরত ছিলেন। সাত মাস বা তারও বেশি সময় ধরে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে কাজী আনারকলিকে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার হিসেবে বদলি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত মাসে শ্রমিক পাচার, গৃহকর্মী নির্যাতন ও ভয় দেখিয়ে বিনা বেতনে কাজ করানোর অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মো. শাহেদুল ইসলামকে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে মুচলেকা দিয়ে তিনি জামিন পান। এর কয়েক দিন পর জাতিসংঘে কর্মরত কূটনীতিক হামিদুর রশিদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বেতন কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তার গৃহকর্মী। এ ঘটনায় হামিদুর রশীদকেও গ্রেফতার করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস কনস্যুলেটের কমার্শিয়াল কনসাল আল মামুন গৃহকর্মী সাবি্বরকে না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কতদিন নিখোঁজ রয়েছে তা বলতে পারেননি। তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ভিসা প্রাপ্তি সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন কাজী আনারকলি।
জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার দূতাবাস কার্যালয়ে ওই কূটনীতিকের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি। লস অ্যাঞ্জেলেস কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল প্রিয়তোষ সাহার মোবাইলে কল করা হলেও তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন রেখে দেন।
দূতাবাস সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে যোগ দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কাজী আনারকলি। তার বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিঁপড়াকাঠিতে। গৃহকর্মী সাবি্বর যুক্তরাষ্ট্রে আসার কিছু দিন পরই কাজী আনারকলির লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসা থেকে নিখোঁজ হন।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকরা এখন থেকে আর গৃহকর্মী নিতে পারবেন না বলে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নিউইয়র্কে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।