দেশে প্রতিবছর বয়স্ক কোঠায় তালিকাভুক্ত হচ্ছেন ৮০ হাজার মানুষ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের বয়স্ক ব্যক্তিদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের সংবিধান দেশের বয়স্ক নাগরিকসহ সকল নাগরিকের সম-অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সরকারের ডেমোগ্রাফিক ট্রান্সিশনের প্রতি সংবেদনশীলতার ফলে দেশে প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার নতুন জনসংখ্যা বয়স্ক ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করছে। গত বুধবার জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘

ওপেন ইন্ডেড ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এজিং’ এর ৮ম সেশনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ‘মাদ্রিদ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ এর আলোকে বাংলাদেশ ‘বয়স্ক নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের নাগরিকদের বয়স্ক নাগরিক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং একই সাথে তাঁদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিধানাবলী সন্নিবেশিত হয়েছে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার গৃহীত বয়স্ক ভাতা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, কাজের বিনিময়ে অর্থ, ভারনারেবল গ্রুপ ফিডিং কর্মসূচিসহ চাকুরি হতে অবসরের বয়স ৫৭ থেকে ৫৯ বছরে উন্নীত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা রাষ্ট্রদূত মোমেন তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন,বাংলাদেশে অনেক এনজিও বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের সাথে বয়স্কদের কল্যাণে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
সমাজে বয়স্ক ব্যক্তিদের অবদান বৃদ্ধিতে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন তাঁর বক্তব্যে কয়েকটি নীতিগত বিষয় উল্লেখ করেন। এগুলো হলো ১) বয়স্কদের, বিশেষ করে বয়স্ক মহিলাদের দারিদ্র্য বিমোচন ক্ষমতা সৃষ্টিতে বিশেষ মনোযোগ প্রদান, ২) বয়স্কদের ক্ষমতায়ন ও বার্ধক্যজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিসহ ‘মাদ্রিদ প্ল্যান অব অ্যাকশান’ এর সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বপ্রদান, ৩) বার্ধক্যবিষয়ক সকল নীতিমালায় অক্ষমতা এবং লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত ও জোরদার করা, ৪) পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি বয়স্কদের, বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, ৫) এজেন্ডা ২০৩০ সহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নার্থে বয়স্কদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার জাতীয় প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো।
কোন উন্নয়ন প্রচেষ্টায় যাতে বয়স্ক ব্যক্তিগণ বাদ না পড়েন সে লক্ষ্যে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করতে রাষ্ট্রদূত মোমেন সকলের প্রতি আহ্বান জানান।