নিউ ইয়র্কে একমঞ্চে তিন ছড়াকারের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন


 
সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক প্রবাসী জনপ্রিয় তিন ছড়াকারদের তিনটি ছড়ার বইয়ের জমকালো মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার ক্লাব সনমে শিশু-কিশোর ও বড়দের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপভোগ

করতে দর্শকদের প্রায় হুমড়ি খেতে হয়।
নিউ ইয়র্ক প্রবাসী জনপ্রিয় তিন ছড়াকার মনজুর কাদেরের ‘গোলাপ বাগান আগলে রাখি’ খালেদ সরফুদ্দীনের ‘কুটুম কুটুম’ এবং শামস চৌধুরী রুশো’র ‘গোলকের উল্টা পিঠে’ মোড়ক উম্মোচন করেন যথাক্রমে সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট হাসান ফেরদৌস এবং বিশিষ্ট লেখক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক কর্মকর্তা বেলাল বেগ। এসময় তিন ছড়াকারদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন যথক্রমে- মনজুর কাদেরকে অভিনেত্রী রেখা আহমেদ, খালেদ সরফুদ্দীনকে কবি কাজী আতিক এবং শামস চৌধুরী রুশোকে কবি সোনিয়া কাদের।

মনের অভিব্যক্তি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো ভাষা আর সে ভাষা ছন্দে প্রকাশ করাই হলো কবিতা বা ছড়া। কবে থেকে কাব্যকথার জন্ম, তা নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। তবে হাজার বছরের কম যে নয়, তা নিশ্চিত। ছোটবেলায় যেটি প্রথম শেখা হয়, তা হলো ছন্দ বা ছন্দমিল। প্রাচীন যুগে কবিতা লেখা এত সহজ ছিল না। ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে মানুষ গল্প বলত কবিতার মতো। এটা হয়ে যেত ভীষণ বড়। এ ধরনের লেখা বংশানুক্রমভাবে স্মরণ করা হতো। অনেক আগে না লিখে শুধু মুখে মুখেও কবিতা বলা হতো।

সাবিনা শারমিন নিহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন নিউ ইয়র্কস্থ সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে নানা প্রতিকূলতার মাঝে তিন ছড়াকারের একত্রে তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন করা একটি দূরহ কাজ। সাহিত্য একাডেমি এই কঠিন কাজটি সফল করতে সক্ষম হয়েছে। যারা নেপথ্যে থেকে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিন ছড়াকার মনজুর কাদের, খালেদ সরফুদ্দীন ও শামস চৌধুরী রুশো’র সাফল্যও কামনা করেন তিনি। তিন ছড়াকার মঞ্চে পরিচয়

করিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় মনজুর কাদের, খালেদ শরফুদ্দিন ও শামস চৌধুরী রুশোর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন যথাক্রমে জুলি রহমান, মনিজা রহমান ও রওশন হাসান। গোলাপ বাগান আগলে রাখি,কুটুম কুটুম ও গোলকের উল্টা পিঠে ছড়ার বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক প্রাবন্ধিক ফেরদৌস সাজেদীন, সঙ্গীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম এবং সঙ্গীতশিল্পী মুত্তালিব বিশ্বাস।

এছাড়াও বক্তব্য দেন বিপার এনী ফেরদৌস, সুর ও ছন্দ’র এমদাদ হসেন, বাফার ফরিদা ইয়াসমিন, উদীচীর সাবিনা হাই উর্বি ও  বহ্নিশিখার সবিতা দাস। ছড়াকারদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন খালেদ সরফুদ্দিন।
মনজুর কাদের এর ৪টি ছড়া আবৃত্তি করেন নজরুল কবীর (স্বভাব),নজরুল ইসলাম (প্রিয়ার মতো), হাসান হাবিব (পথ) ও পারভিন সুলতানা (বিলাই)। খালেদ সরফুদ্দিন এর ৪টি ছড়া আবৃত্তি করেন কনিকা ধর (পাখিদের সাথে আজ উড়বো), লুবনা কাইজার (লাল বৈশাখী), শিরিন ইসলাম ( চাই কি যাদুর চাবি) ও তাহরীনা প্রীতি ( ইচ্ছে হলে অন্যভাবে আকো) এবং শামস চৌধুরী রুশোর ৪টি ছড়া আবৃত্তি করেন বাহাউদ্দিন পিয়াল (বয়স যখন চার),নীরা বাহাউদ্দিন (কুটুম কুটুম),রোশনা শামস (দোল খায় মিলে মিলে) ও শুক্লা রায় (লজ্জা কি যদি শিখি)।

দ্বিতীয় পর্বে মুমু আনসারীর নির্দেশনায় শিশু কিশোরদের নিয়ে ছড়াসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন মুমু আনসারী, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর ও দুররে মাকনুন নবনী। অংশগ্রহনকারী  শিশু শিল্পীরা হলেন আওসাফ আহমেদ,সাফওয়ান নাহিন, রাখি বালা,লাম মীম, আশরাফ আসীম, কাব্য, রাহুল দেব, লিউনা মুহিত্‌ তাহমিদ, মুন জেবিন হাই, নাহ রীন ইসলাম, রিতিকা দেব, কৈশী, অরজিতা প্রবর্তনা দাশ, ইশিকা

আহমেদ অহনা, ঋতু বালা, সুমাইয়া আহ মেদ, রাইসা, নুশ রাত নাবিলা, মেহজাবীন, সারাহ শামস ও আকাশ। ছড়াগানের সঙ্গে শিল্পীদের তবলায় সঙ্গত করেন তবলা বাদক সাত্তার মাহমুদ। নিউ ইয়র্কস্থ সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মোশারফ হোসেন ও ইউ এস বাংলা নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক আবু সাঈদ রতনের সার্বিক সহযোগিতায় তিন ছড়াকারদের নতুন তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের এ অনুষ্ঠানটি সার্থক ও সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকবৃন্দ।